Friday, 30 September 2016

সাতশো গুণ লাভ

খেলাফতকালে এক দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হয়। খাদ্যদ্রব্য একেবারেই দুর্লভ হয়ে পড়ে এবং মানুষের দুঃখ দুর্দশা চরম আকার ধারণ করে।
সেই সময় হযরত উসমানের প্রায় এক হাজার মন গমের একটি চালান বিদেশ হতে মদীনায় পৌঁছলো। শহরের কয়েকজন ব্যবসায়ী তাঁর কাছে এল। তারা তাঁর সমস্ত গমের চালান ৫০% লাভে কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিল।
সেই সাথে তারা এও ওয়াদা করল যে, তারা দুর্ভিক্ষ পীড়িত জনগণের দুর্দশা লাঘবের জন্যই এটা কিনতে চেয়েছে।
হযরত ওসমান(রা) বললেন, “তোমরা যদি আমাকে এক হাজার গুণ লাভ দিতে পার, তবে আমি দিতে পারি। কেননা অন্য একজন আমাকে সাতশো গুণ লাভ দিতে চেয়েছেন।”
ব্যবসায়ীরা বললো, “বলেন কি? চালান মদীনায় আসার পর তো আমরাই প্রথম এলাম আপনার কাছে। সাতশো গুণ লাভের প্রস্তাব কে কখন দিলো?”
হযরত ওসমান বললেন, “এই প্রস্তাব আমি পেয়েছি আল্লাহর কাছ থেকে। আমি এই চালানের সমস্ত গম বিনামূল্যে গরীবদের মধ্যে বিতরণ করবো। এর বিনিময়ে আল্লাহ আমাকে সাতশো গুণ বেশি পূণ্য দিবেন বলে ওয়াদা করেছেন।”
শিক্ষাঃ পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ২৬১ নং আয়াতে এই ওয়াদার উল্লেখ রয়েছে।
হযরত ওসমান(রা) সম্ভবত ঐদিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
হযরত ওসমানের মহানুভবতার এই ঘটনা বিপন্ন মানুষের সেবাকে ইসলাম কত গুরুত্ব দেয়, তারই প্রমাণ বহন করে।
জনসেবা ও ত্যাগের এই মনোভাব বিশেষভাবে ধনীদের মধ্যে সঞ্চারিত হওয়া খুবই জরুরী।

Thursday, 29 September 2016

সসনিয়ন সাম্রাজ্য



ইরানে ইসলামের আগমনের পূর্বে সেখানকার সর্বশেষ সাম্রাজ্য এটি। প্রায় ৪০০ বছর ধরে এটি পশ্চিম এশিয়া ইউরোপের দুইটি প্রধান শক্তির একটি ছিল। প্রথম আর্দাশির পার্থীয় রাজা আর্দাভনকে পরাজিত করে সসনিয়ন রাজবংশের পত্তন করেন। ইসলামের আরব খলিফাদের কাছে শেষ সসনিয়ান রাজা শাহানশাহ ৩য় ইয়াজদেগের্দের পরাজয়ের মাধ্যমে সসনিয়ন সাম্রাজ্যের সমাপ্তি ঘটে। সসনিয়ন সাম্রাজ্যের অধীনস্থ এলাকার মধ্যে ছিল বর্তমান ইরান, ইরাক, আর্মেনিয়া, দক্ষিণ ককেসাস, দক্ষিণ-পশ্চিম মধ্য এশিয়া, পশ্চিম আফগানিস্তান, তুরস্কের সিরিয়ার অংশবিশেষ, পাকিসতানের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ এবং আরব উপদ্বীপের কিছু উপকূলীয় এলাকা। এক পর্যায়ে প্রায় .৫৫ মিলিয়ন বর্গমাইল এলাকা সাম্রাজ্যের আওতায় ছিল। -

মুহাম্মাদ বিন কাশিম ভারতে নিয়োগ দান




হিন্দুস্তানে ইসলাম সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে দামেস্ক-ভিত্তিক উমাইয়া খলিফাদের শাসনামলে। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে, সিন্ধু অঞ্চলে উমাইয়াদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে উমাইয়ারা মাত্র ১৭ বছর বয়সী তায়েফের এক অধিবাসীঃ “মুহাম্মাদ বিন কাশিম” কে নিয়োগ দেয়। ‘সিন্ধু’ হচ্ছে উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, যা বর্তমান পাকিস্তানের সিন্ধু নদের তীরবর্তী এলাকা। মুহাম্মাদ বিন কাশিম এর নেতৃত্বাধীন ৬০০০ সৈন্যের এক বাহিনী পারস্যের সবচেয়ে-পূর্বের ‘মাক্‌রান’ (বর্তমান সিন্ধু এবং বেলুচিস্তানের দক্ষিণে) অঞ্চলে এসে পৌঁছায়।
হিন্দুস্তানে আসার পথে তিনি তেমন বাধার সম্মুখীন হননি। সিন্ধু নদের তীরবর্তী শহর ‘নেরুন’ এর কাছাকাছি পৌঁছালে শহরের বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা তাকে স্বাগত জানান, শহরটি মূলত সন্ন্যাসীদের অধীনেই ছিল। সিন্ধু নদের তীরবর্তী অন্যান্য শহরগুলোও এরপর কোন যুদ্ধ-বিগ্রহ ছাড়াই স্বেচ্ছায় মুসলিমদের অধীনে চলে আসে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, নির্যাতিত বৌদ্ধ সংখ্যালঘুরা তাদের এলাকার হিন্দু শাসক থেকে পালিয়ে মুসলিম সেনাবাহিনীর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে।
জনসাধারণের মধ্যে সিংহভাগের মুসলিমদের প্রতি সমর্থন থাকা সত্ত্বেও, সিন্ধুর রাজা দাহির মুসলিমদের এই অগ্রযাত্রার বিরোধিতা করেন এবং মুহাম্মাদ বিন কাশিম এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। ৭১২ খ্রিস্টাব্দে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ শেষ হয় রাজা দাহিরের শোচনীয় পরাজয়ের মাধ্যমে। এই বিজয়ে পুরো সিন্ধু মুসলিমদের অধীনে চলে আসে।
উল্লেখ্য যে, সিন্ধুর জনসাধারণকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয়নি। বরং প্রকৃতপক্ষে, কারো দৈনন্দিন জীবনে কোন পরিবর্তনই আসেনি। মুহাম্মাদ বিন কাশিম তার অধীনস্থ হিন্দু ও বৌদ্ধদের নিরাপত্তা দেন এবং ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দেন। উদাহরণস্বরূপ, আগের মতোই ব্রাহ্মণরা কর সংগ্রহের দায়িত্বে আর বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা তাদের মঠ রক্ষণাবেক্ষণ এর দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে। ধর্ম পালনের এই স্বাধীনতা এবং সুবিচার প্রতিষ্ঠার কারণে, অনেক শহরের অধিবাসীরা গান-বাজনার মাধ্যমে মুহাম্মাদ বিন কাশিম এবং তার বাহিনীকে অভিবাদন জানায়।

হযরত উমর ( রা . ) - এর খিলাফত

ইসলামের
ইতিহাসে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়
অধ্যায়। এ সময়ে সভ্যতার অভিযান যে -
ভাবে ও যে- গতিতে পুরাতন জরাজীর্ণ
ঘুণেধরা পৃথিবীকে ওলটপালট করে
দিয়েছিল তার তুলনা ইতিহাসে বিরল।
যে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু
হয়েছিল রসূলুল্লাহ ( সা ) -র আমল থেকে তা
হযরত আবূ বকর ( রা. ) -এর খিলাফতের পর
হযরত উমর ( রা . ) -এর স্কন্ধেই ন্যস্ত হয়। দেশ
বিজয়ের সাথে সাথে যে সব নতুন নতুন
সামাজিক সমস্যার উদ্ভব হয়েছিল হযরত
উমর ( রা. ) -কে সেই সব সমস্যার মুকাবিলা
করতে হয়। তিনি ইসলামের মারফত
এগুলোর সমাধান খুঁজেছিলেন ; আর তার
প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছিলেন সমাজ
কল্যাণে। সূক্ষ্মভাবে বিচার করলে
ইসলামী সমাজ দর্শনের পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠা
না হলেও সেই মধ্যযুগেও যে এক সুষ্ঠ
নৈতিক ও সামাজিক বাস্তব সমাজ-
ব্যবস্থার গোড়াপত্তন হয়েছিল তা
ইতিহাসের কোথাও খুঁজে পাওয়া কঠিন।
খোলাফায়ে রাশেদা বা প্রথম চার
খলীফার সম্বন্ধেও একথা বলা চলে তবে
সংগঠনের দিক দিয়ে হযরত উমর ( রা. ) -এর
খিলাফতের ভিতরে পাই এক চমকপ্রদ
পৌর ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ইতিহাস।
ঐতিহাসিক ওয়েল ( Weil ) হযরত উমর ( রা . ) -
কে তাই ‘ The Guiding Spirit of Islam’ বলে
অভিহিত করেছিলেন।

উমাইয়া খিলাফত

উমাইয়া খিলাফত ইসলামের প্রধান
চারটি খিলাফতের মধ্যে দ্বিতীয়
খিলাফত। এটি উমাইয়া রাজবংশকে
কেন্দ্র করে গড়ে উঠে। ইসলামের
তৃতীয় খলিফা উসমান ইবন আফ্ফানের
খিলাফত লাভের মাধ্যমে উমাইয়া
পরিবার প্রথম ক্ষমতায় আসে। তবে
উমাইয়া বংশের শাসন মুয়াবিয়া ইবনে
আবু সুফিয়ান কর্তৃক সূচিত হয়। তিনি
দীর্ঘদিন সিরিয়ার গভর্নর ছিলেন।
ফলে সিরিয়া উমাইয়াদের ক্ষমতার
ভিত্তি হয়ে উঠে এবং দামেস্ক
তাদের রাজধানী হয়। উমাইয়ারা
মুসলিমদের বিজয় অভিযান অব্যাহত
রাখে। ককেসাস, ট্রান্সঅক্সানিয়া,
সিন্ধু,মাগরেব ও ইবেরিয়ান উপদ্বীপ
(আন্দালুস) জয় করে মুসলিম বিশ্বের
আওতাধীন করা হয়। সীমার সর্বোচ্চে
পৌছালে উমাইয়া খিলাফত মোট
৫.৭৯ মিলিয়ন বর্গ মাইল (১,৫০,০০,০০০
বর্গ কিমি.) অঞ্চল অধিকার করে
রাখে। তখন পর্যন্ত বিশ্বের দেখা
সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে এটি সর্ববৃহৎ
ছিল। অস্তিত্বের সময়কালের দিক
থেকে এটি ছিল পঞ্চম।

Wednesday, 28 September 2016

পারসিয়ান সম্রাজ্য


পৃথিবীর সবচাইতে গুরুত্বপুর্ণ সম্রাজ্য
গুলোর মদ্ধ্যে পারসিয়ান সম্রাজ্য
(Achaemenid Empire) অন্যতম। সু উচ্চ
পাহার, পর্বত, হ্রদ ও নদীনালা সব
কিছুই ছিলো এই সম্রাজ্যের। এই
সম্রাজ্যের ব্যপ্তি ছিল বর্তমান
পাকিস্তান থেকে লিবিয়া আর ওই
দিকে বলকান পর্যন্ত। এরাই প্রথম
কেন্দ্র চালিত একটি শাষন ব্যবস্থা
প্রচলন করে যার কারনে শত শত বছর
এরা শাষন করতে পেরেছিল।
জারক্সিস এই সম্রাজ্যের সম্রাট
ছিলেন।(৩০০ মুভিটা দেখে থাকলে
একটা ভাল ধারনা থাকবে এদের
ততকালিন সমর শক্তি এবং অহংবোধ
সম্পর্কে।) সম্ভবত মুসলমানদের হাতে
এদের সম্পুর্ন পতন হেয়েছে।

পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাম্রাজ্য

পৃথিবীতে
হাজার হাজার বছর ধরে চলতে থাকা
শক্তিশালি জাতি ও সম্রাজ্য গুলো
নিয়ে। যেই সম্রাজ্য গুলো নিজেদের
শক্তি ও সামর্থের কারনে ও তাদের
সৃষ্টির কারনে আজ পৃথিবীর মানুষের
কাছে আকর্শনের কেন্দ্রবিন্দু। আজ
আমরা ২য় পর্বে দ্বারিয়ে। চলুন জেনে
নেই পৃথিবীর ইতিহাসে সবচাইতে
গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু সাম্রাজ্য সম্পর্কে:
অটোমান সাম্রাজ্য (১২৯৯-১৯২২):
সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম
উসমানের নাম থেকে উসমানীয় বা
অটোমান নামটি এসেছে। একইভাবে
রাজবংশকে উসমানীয় রাজবংশ বা
অটোমান রাজবংশ বলা হয়। পৃথিবীর
ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ এবং দীর্ঘসময়
পর্যন্ত শাসন করা সম্রাজ্য ছিল
অটোমান সম্রাজ্য। সুলেমান দ্য
মেগনিফিসেন্ট এর শাষনামলে এর
সর্বোচ্চ উৎকর্ষতা ছিল। তখন রোমান
সম্রাজ্যের দক্ষিন সীমানা থেকে
ইরান এর পারসিয়ান গালফ পর্যন্ত এবং
কাস্পিয়ান সাগর থেকে আধুনিক
আলজেরিয়া পর্যন্ত এর সিমানা
বিস্তিৃত ছিল। ততকালিন দক্ষিন
ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া এবং উত্তর
আফ্রিকা সহ বিশাল আরব ভুখন্ড এরাই
শাষন করত। ১৭শ শতকের শুরুর দিকে
অটোমান সম্রাজ্যের ৩২ টার উপর
সুবিশাল একএকটা প্রদেশ ছিল। যা এই
সম্রাজ্যকে সত্যিকার অর্থে
ততকালিন সময়ের একটি বৃহৎ সম্রাজ্যা
হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই
সম্রাজ্যের পতনের প্রধান কারন হচ্ছে
বৃটিশদের ষরযন্ত্র আর তাদের
দোষরদের মুনাফেকি। মুসলমানদের
মতবাদ নিয়ে প্রচন্ড রকমের
মতপার্থক্য আর সংঘর্ষ একটা কারন
হচ্ছে এই সম্রাজ্য পতনের। পুরো
সম্রাজ্যকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে
ফেলা হয়। আধুনিক তুরস্ক এই
সম্রাজ্যের কেন্দ্র্র বিন্দু ছিল।

হযরত উমর (রা.) যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন



হযরত হামযা (রা.)-এর
ইসলাম
গ্রহণের মাত্র
তিন দিন
পরেই
আল্লাহর
অপার অনুগ্রহে আরেকজন কুরাইশ বীর ওমর
ইবনুল খাত্ত্বাব আকস্মিকভাবে মুসলমান
হয়ে যান। অবশ্য এটি ছিল রাসূলের
বিশেষ দো’আর ফসল। কেননা তিনি
খাছভাবে দো‘আ করেছিলেন যে, ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺃﻋﺰ
ﺍﻹﺳﻼﻡ ﺑﺄﺣﺐ ﺍﻟﺮﺟﻠﻴﻦ ﺇﻟﻴﻚ، ﺑﻌﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺃﻭ
ﺑﻌﻤﺮﻭ ﺑﻦ ﻫﺸﺎﻡ - ‘হে আল্লাহ! ওমর ইবনুল
খাত্ত্বাব অথবা আমর ইবনু হেশাম (আবু
জাহ্ল) এই দু’জনের মধ্যে তোমার নিকটে
যিনি অধিকতর প্রিয় তার মাধ্যমে তুমি
ইসলামকে শক্তিশালী কর’। পরের দিন
সকালে তিনি এসে ইসলাম গ্রহণ করলেন
এবং কা‘বা গৃহে গিয়ে প্রকাশ্যে ছালাত
আদায় করলেন’। অতঃপর ওমরের ইসলাম
গ্রহণের ফলে প্রমাণিত হ’ল যে, তিনিই
ছিলেন আল্লাহর নিকটে অধিকতর প্রিয়।
ওমর ছিলেন অত্যন্ত কঠোর প্রকৃতির মানুষ
এবং পিতৃধর্মের প্রতি অন্ধ আবেগ
পোষণকারী। একই কারণে তিনি ছিলেন
ইসলামের একজন বিপজ্জনক শত্রু। সে
কারণেই একদিন তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-
কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তরবারি নিয়ে
রওয়ানা হলেন। পথিমধ্যে নু‘আইম বিন
আব্দুল্লাহ্র সঙ্গে দেখা হল, যিনি তার
ইসলাম গোপন রেখেছিলেন।
তিনি বলেন, কোথায় চলেছ ওমর? তিনি
বললেন, ﺃﺭﻳﺪ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺼﺎﺑﺊ، ﺍﻟﺬﻯ ﻓﺮَّﻕ ﺃﻣﺮ
ﻗﺮﻳﺶ ﻭﺳﻔّﻪ ﺃﺣﻼﻣﻬﺎ ﻭﻋﺎﺏ ﺩﻳﻨﻬﺎ ﻭﺳﺐّ ﺁﻟﻬﺘﻬﺎ ﻓﺄﻗﺘﻠﻪ
‘আমি এই বিধর্মী মুহাম্মাদের উদ্দেশ্যে
বেরিয়েছি। এ ব্যক্তি কুরায়েশদের
মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করেছে, তাদের
জ্ঞানীদের বোকা বলেছে, তাদের ধর্মে
দোষারোপ করেছে, তাদের উপাস্যদের
গালি দিয়েছে। অতএব আমি তাকে হত্যা
করব’।
নু‘আইম বললেন, ﻛﻴﻒ ﺗﺄﻣﻦ ﺑﻨﻰ ﻫﺎﺷﻢ ﻭ ﺑﻨﻰ ﺯﻫﺮﺓ
ﻭﻗﺪ ﻗﺘﻠﺖَ ﻣﺤﻤﺪًﺍ؟ তাকে হত্যা করে বনু
হাশেম ও বনু যোহরা থেকে কিভাবে
রক্ষা পাবে? ওমর বললেন, ﻣﺎ ﺃﺭﺍﻙ ﺇﻻ ﻗﺪ
ﺻَﺒَﻮْﺕَ ﻭﺗﺮﻛﺖَ ﺩﻳﻨَﻚ ﺍﻟﺬﻯ ﻛﻨﺖَ ﻋﻠﻴﻪ তুমিও
দেখছি পূর্ব পুরুষের ধর্ম পরিত্যাগ করে
বেদ্বীন হয়ে গেছ’? নু‘আইম বললেন, আমি
কি তোমাকে একটি আশ্চর্যজনক খবর দেব
না? ওমর বললেন, কি খবর? নু‘আইম বলল, ﺇﻥ
ﺃﺧﺘﻚ ﻭﺧﺘﻨﻚ ﻗﺪ ﺻﺒﻮﺍ ﻭﺗﺮﻛﺎ ﺩﻳﻨﻚ ﺍﻟﺬﻯ ﻛﻨﺖ ﻋﻠﻴﻪ -
‘তোমার বোন ও ভগ্নিপতি বেদ্বীন হয়ে
গেছে এবং তারা তোমার ধর্ম পরিত্যাগ
করেছে’।
এতে ওমরের আত্মসম্মানে ঘা লাগলো
এবং ক্রোধে
অগ্নিশর্মা হয়ে বোনের বাড়ীর দিকে
ছুটলেন। হযরত খাববাব ইবনুল আরত ঐসময়
ঘরের মধ্যে গোপনে স্বামী-স্ত্রীকে
কুরআনের সূরা ত্বোয়াহা-এর তা‘লীম
দিচ্ছিলেন। ওমরের পদশব্দে হতচকিত
হয়ে তিনি ঘরের এক কোণে লুকিয়ে যান।
ওমর ঘরে ঢুকে বললেন, শুনলাম তোমরা
দু’জনে বেদ্বীন হয়ে গেছ?
ভগ্নিপতি সাঈদ বললেন, ﺃﺭﺃﻳﺖ ﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﺤﻖ
ﻓﻰ ﻏﻴﺮ ﺩﻳﻨﻚ؟ ‘হে ওমর! যদি আপনার ধর্ম
ছাড়া অন্য ধর্মে সত্য নিহিত থাকে, তবে
সেবিষয়ে আপনার রায় কি’? একথা শুনে
ওমর তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে
ভগ্নিপতির উপরে ঝাঁপিয়ে পড়লেন ও
তাকে নির্মমভাবে প্রহার করতে
থাকলেন। তখন বোন (ফাতেমা) তাকে
স্বামী থেকে পৃথক করে দিলেন। এতে
ওমর ক্ষিপ্ত হয়ে বোনের গালে জোরে
চপেটাঘাত করলেন। তাতে বোনের
মুখমন্ডল রক্তাক্ত হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে
বোন তেজস্বী কণ্ঠে বলে উঠলেন, ﻳﺎ ﻋﻤﺮ ﺇﻥ
ﻛﺎﻥ ﺍﻟﺤﻖ ﻓﻰ ﻏﻴﺮ ﺩﻳﻨﻚ ﺃﺷﻬﺪ ﺃﻥ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺃﺷﻬﺪ
ﺃﻥ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ - ‘হে ওমর! তোমার ধর্ম
ছাড়া যদি অন্য ধর্মে সত্য থাকে? বলেই
তিনি সোচ্চার কণ্ঠে কলেমায়ে
শাহাদাত উচ্চারণ করলেন (আর-রাহীক্ব)
এবং বললেন, ﻗﺪ ﺃﺳﻠﻤﻨﺎ ﻭ ﺁﻣﻨﺎ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﻭ ﺭﺳﻮﻟﻪ ﻓﺎﺻﻨﻊ
ﻣﺎ ﺑﺪﺍ ﻟﻚ - ‘আমরা ইসলাম কবুল করেছি এবং
আল্লাহ ও তার রাসূলের উপর ঈমান
এনেছি। এক্ষণে তোমার যা খুশী কর’ (ইবনু
হিশাম)।
বোনের রক্তাক্ত চেহারা দেখে এবং
তার মুখে এ দৃপ্ত সাক্ষ্য শুনে ওমরের মধ্যে
ভাবান্তর দেখা দিল। তিনি লজ্জিত
হলেন ও দয়ার্দ্র কণ্ঠে বললেন, তোমাদের
কাছে যে পুস্তিকাটা আছে, ওটা আমাকে
একটু পড়তে দাও’। বোন সরোষে বললেন, ﺇﻧﻚ
ﺭﺟﺲ ﻭﻻ ﻳﻤﺴﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻤﻄﻬَّﺮﻭﻥ ﻓﻘﻢ ﻭﺍﻏﺘﺴﻞ তুমি
অপবিত্র। ঐ কিতাব পবিত্র ব্যক্তি ভিন্ন
স্পর্শ করতে পারে না। ওঠ, গোসল করে
এসো’। ওমর তাই করলেন। অতঃপর কুরআনের
উক্ত খন্ডটি হাতে নিয়ে সূরা ত্বোয়াহা
পড়তে শুরু করলেন। যখন ১৪তম আয়াত পাঠ
করলেন ﺇِﻧَّﻨِﻲ ﺃَﻧَﺎ ﺍﻟﻠﻪُ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺃَﻧَﺎ ﻓَﺎﻋْﺒُﺪْﻧِﻲ ﻭَﺃَﻗِﻢِ
ﺍﻟﺼَّﻼَﺓَ ﻟِﺬِﻛْﺮِﻱ - ‘নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ, আমি
ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। অতএব তুমি
আমারই ইবাদত কর এবং আমার স্মরণে
ছালাত কায়েম কর’ (ত্বোয়াহা ২০/১৪)।
এ আয়াত পাঠ করেই ওমর বলে উঠলেন, ﻣﺎ
ﺃﺣﺴﻦَ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻜﻼﻡ ﻭﺃﻛﺮﻣَﻪ؟ ﺩﻟﻮﻧﻰ ﻋﻠﻰ ﻣﺤﻤﺪ - ‘কতই
না সুন্দর ও কতই না মর্যাদাপূর্ণ এ বাণী?
তোমরা আমাকে মুহাম্মাদ কোথায়
বাৎলে দাও! অন্য বর্ণনায় এসেছে, ১৫
আয়াত পর্যন্ত ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺴَّﺎﻋَﺔَ ﺁﺗِﻴَﺔٌ ﺃَﻛَﺎﺩُ ﺃُﺧْﻔِﻴْﻬَﺎ ﻟِﺘُﺠْﺰَﻯ
ﻛُﻞُّ ﻧَﻔْﺲٍ ﺑِﻤَﺎ ﺗَﺴْﻌَﻰ - ‘নিশ্চয়ই ক্বিয়ামত আসবে।
আমি এটা গোপন রাখতে চাই, যাতে
প্রত্যেকে স্ব স্ব কর্যানুযায়ী ফল লাভ
করতে পারে’। এ পর্যন্ত পাঠ করেই তিনি
বলে ওঠেন, ﻣﺎ ﺃﻃﻴﺐَ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻜﻼﻡ ﻭ ﺃﺣﺴﻨَﻪ - ‘কতই
না পবিত্র ও কতই না সুন্দর এ বাণী!’
ওমরের একথা শুনে খাববাব গোপন স্থান
থেকে ত্বরিৎ বেরিয়ে এসে বললেন, ﺃﺑﺸﺮ
ﻳﺎ ﻋﻤﺮ ﻓﺈﻧﻰ ﺃﺭﺟﻮ ﺃﻥ ﺗﻜﻮﻥ ﺩﻋﻮﺓ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻟﻚ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺨﻤﻴﺲ - ‘সুসংবাদ গ্রহণ কর
হে ওমর! আমি আশা করি গত বৃহস্পতিবার
রাতে আল্লাহর রাসূল যে দো‘আ
করেছিলেন তা তোমার শানে কবুল
হয়েছে’। চল আল্লাহর রাসূল ছাফা
পাহাড়ের পাদদেশের বাড়ীতে অবস্থান
করছেন।
যথাসময়ে কোষবদ্ধ তরবারি সহ ওমর
সেখানে উপস্থিত হ’লেন। তাঁকে
তরবারিসহ দেখে হামযা (রাঃ)-এর
নেতৃত্বে সবাই তাকে মোকাবিলার জন্য
প্রস্ত্তত হয়ে গেলেন। হামযা সবাইকে
আশ্বস্ত করে বললেন, তাকে স্বাচ্ছন্দে
আসতে দাও। যদি সে সদিচ্ছা নিয়ে এসে
থাকে তবে ভাল। নইলে তরবারি দিয়েই
তার ফায়ছালা করা হবে’।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ভিতর থেকে
বেরিয়ে এসে ওমরের জামার কলার ও
তরবারির খাপ ধরে জোরে টান দিয়ে
বললেন, অলীদ বিন মুগীরাহ্র মত অপদস্থ ও
শাস্তিপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কি তুমি
বিরত হবে না’? অতঃপর আল্লাহর নিকটে
প্রার্থনা করে বললেন, ﺍﻟﻠﻬﻢ ﻫﺬﺍ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ
ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ، ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺃﻋﺰ ﺍﻹﺳﻼﻡ ﺑﻌﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ‘হে
আল্লাহ! এই যে ওমর! হে আল্লাহ তুমি ওমর
ইবনুল খাত্ত্বাবের মাধ্যমে ইসলামের
শক্তি বৃদ্ধি কর’। এই দো‘আর প্রভাব ওমরের
উপরে এমনভাবে পড়ে যে, তিনি সঙ্গে
সঙ্গে বলে ওঠেন, ﺃﺷﻬﺪ ﺃﻥ ﻵ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺃﻧﻚ
ﺭﺳﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪ - ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ
ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং আপনি
অবশ্যই আল্লাহর রাসূল’। সাথে সাথে
তিনি ইসলাম কবুল করলেন এবং আল্লাহর
রাসূল (সা.) ও গৃহবাসী ছাহাবীগণ এমন
জোরে তাকবীর ধ্বনি করলেন যে,
মসজিদুল হারাম পর্যন্ত সে আওয়ায পৌঁছে
গেল’।




ইসলামের প্রথম যুদ্ধ বদর


লিংক
ছবি
খবর
গ্রন্থাগার
যোগাযোগ
মক্কায় শুরু হলো হজ:
সিরিয়দের ক্ষেত্রে
বৈষম্য-নীতি
সাংবাদিক সদস্যতা
সেয়ার
দর্শকসংখ্যা
লিংক বিনিময়
1000 ﺣﺮﻑ ﻣﺎﻧﺪﻩ
ﺍﺭﺳﺎﻝ
JComments
(ইসলামের প্রথম যুদ্ধ (বদর
( 1 Vote )
বিস্তারিত
ক্যাটেগরি: ইসলামের ইতিহাস
হিটস: 3462
(ইসলামের প্রথম যুদ্ধ (বদর
ইসলামের ইতিহাসে ‘আল-বদর’ এক
অবিস্মরণীয় ঘটনা, কুদরতী শক্তির এক
বিস্ময়কর বহিঃপ্রকাশ। বদরের যুদ্ধ সত্য
প্রমাণ করেছে কোরআনের সে ঘোষণাকে
যাতে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলও
বৃহত্তর শক্তির ওপর বিজয়ী হয়েছে আর তা
সম্ভব হয়েছে স্রষ্টার কুদরতী শক্তির
প্রত্যক্ষ সাহায্যের ফলেই। আল্লাহই
বিজয়দানকারী, তাঁর ওপর ভরসা করেই
এগিয়ে যেতে হবে মুসলমানদের। এ
সত্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্যেই এই
প্রবন্ধের অবতারণা। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে
নবী করীম (সা.)-এর মদিনার পথে মক্কা
ত্যাগের দিন থেকে একটি নতুন সাল
হিজরির সূচনা। তাঁর এই দেশ ত্যাগকেই
বলা হয়েছে হিজরত। মুসলমানদের
ইতিহাসে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়
পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণ হিসেবে
বিবেচিত। মদিনার মানুষ প্রাণঢালা উষ্ণ
সংবর্ধনা দেওয়ার ভিতর দিয়ে আল্লাহর
নবীকে গ্রহণ করলেন। এর পরই মহানবী
(সা.) মদিনাতে একটি নগর-রাষ্ট্র
প্রতিষ্ঠার তৎপরতা শুরু করলেন। মক্কী
হিজরতকারী, মদিনার আনসার, ইহুদি এবং
আরবদের মধ্যে যারা তখনও ইসলাম কবুল
করেনি তারা সহ সকল মদিনাবাসীকে
পরামর্শের জন্য ডাকা হলো এবং তাদের
সম্মুখে একটি শাসনতন্ত্র পেশ করা হলো।
দুনিয়ার ইতিহাসে এটিই হচ্ছে প্রথম
লিখিত শাসনতন্ত্র। এতে শাসক ও শাসিত
উভয়ের অধিকার ও কর্তব্য লিপিবদ্ধ
হয়েছিল। হিজরির দ্বিতীয় বছর রাসূল
(সা.) স্বেচ্ছামূলক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ দুটি
দৃষ্টান্ত থেকে দেখা যাচ্ছে, সমাজকে
সংগঠিত করাই ছিল মদিনাতে মহানবী
(সা.)-এর প্রাথমিক কাজগুলোর অন্যতম।
মুসলমানরা এমনি করে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন
শুরু করলেন, হলেন সতর্ক। মনে রাখতে হবে
যে, মুসলমানদেরকে মদিনাতে হিজরত
করতে বাধ্য করা হয়েছিল। তাই এর
সূচনালগ্ন থেকেই মদিনার মুসলমান ও
মক্কার অবিশ্বাসীদের মধ্যে একটি
যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছিল। সবারই ধারণা
ছিল যে, উভয় সমাজের মধ্যে একটি
সংঘর্ষ অনিবার্য। কিন্তু কখন? এই সময়ে
৫০ হাজার দিনার মূল্যের সম্পদবাহী এক
মক্কী কাফেলা আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে
সিরিয়া থেকে মক্কাভিমুখে ফিরছিল।
কুরাইশরা একবার যদি তাদের অর্থনৈতিক
অবস্থা শক্তিশালী করতে পারে তবে
মহানবী (সা.)-এর বিরোধী ইহুদিদের
সহায়তায় তারা মদিনায় মুসলমানদের
বিরুদ্ধে এক সর্বাত্মক আক্রমণ পরিচালনা
করবে এবং মুসলমানদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করার
প্রয়াস পাবে- এ ধরনের একটি সম্ভাবনা
ছিল। ইতিমধ্যে এমন কিছু ঘটনা ঘটে গেল
যা বিরাজমান উত্তপ্ত অবস্থাকে আরও
উত্তপ্ত করে তুলল। এতে মুসলমানদের
অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে দাঁড়াল।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা লক্ষ্য করে নবী
করীম (সা.) তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ
এবং সা’দ ইবনে জায়েদকে আল-হাওরাতে
পাঠালেন পরিস্থিতির প্রাথমিক
পর্যবেক্ষণের জন্য। আবু সুফিয়ানের
কাফেলা যখন নিকটবর্তী তখন এ দুজন
সাহাবী দ্রুত মদিনায় ফিরে এলেন। সুচতুর
আবু সুফিয়ান কাফেলাকে পাশ্চাতে
রেখে একাকী ‘বদর’ এলাকায় উপস্থিত
হলো। সে বুঝতে পারল যে, সেখানে
মদিনাবাসীদের আগমন ঘটেছে। সঙ্গে
সঙ্গে সে মক্কায় সাহায্য চেয়ে একজন
লোককে পাঠিয়ে দিল। কাফেলাটি
গন্তব্যস্থলে পৌঁছে গেলে কুরাইশদের
সামরিক শক্তি যথেষ্ট বৃদ্ধি পাবে।
কাজেই সেটাকে আক্রমণ করাই
মুসলমানদের জন্য স্বাভাবিক ছিল এবং
তা ছিল সহজসাধ্যও। তাছাড়া কাফেলা
দখল করার পদক্ষেপ কুরাইশদেরকে
অসময়োচিত একটি যুদ্ধের মধ্যেই ঠেলে
দিত। কিন্তু মুসলমানরা তা করেনি।
মক্কায় যখন এ খবর পৌঁছল, তথাকার
প্রভাবশালী নেতা আবু জাহল সবাইকে
কা’বা ঘরে সমবেত হতে নির্দেশ দিল
এবং যুদ্ধযাত্রার জন্য প্রস্তুত হতেও বলল।
যখন কুরাইশ বাহিনী মক্কা থেকে
রওয়ানা হলো তখন তাদের সৈন্যসংখ্যা
ছিল এক হাজার। এর মধ্যে ৭শ
উষ্ট্রারোহী, অন্যরা ছিল অশ্বারোহী।
তারা তৎকালীন প্রচলিত উৎকৃষ্টতম
অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিল। ইতিমধ্যে আবু
সুফিয়ান মুসলমানদের কবল থেকে
অব্যাহতি লাভের জন্য ভিন্ন পথে মক্কা
পৌঁছল। এ সংকট শেষ হতে পারত যদি
ঘটনার নতুন মোড় পরিবর্তনের সংবাদ
শুনেও আবু জাহল ফিরে যেতে অস্বীকার
না করত; বরং উলটো সে চাইল শক্তি
প্রদর্শন করে মুসলমানদের মানসিক দিক
থেকে দুর্বল করে দিতে। মদিনা থেকে
ছয় মঞ্জিল দূরে বদর উপত্যকার এক
প্রান্তে নিজস্ব সেনাছাউনি স্থাপন
করার পূর্ব পর্যন্ত সে অগ্রযাত্রা বন্ধ করল
না। দুশমন বাহিনীর অবস্থা হতে মহানবীর
নেতৃত্বাধীন মুসলমানদের অবস্থা ছিল
বিপরীত। যুদ্ধের শুরুতে তাঁদের সংখ্যা
৩০০-এর অধিক ছিল না এবং তাঁরা না
ছিলেন সুসজ্জিত, না ছিল তাঁদের
উল্লেখযোগ্য কোনো অস্ত্রশস্ত্র। তাঁদের
অল্প কয়েকজনেরই মাত্র বর্শা ছিল এবং
অন্যদের ছিল মাত্র একটি করে তলোয়ার।
তাঁদের ছিল মাত্র দুটি ঘোড়া ও ৭০টি
উট। সেগুলোর প্রতিটিতে তিনজন
সৈনিককে বহন করতে হয়েছিল। সবচেয়ে
বড় আশঙ্কার বিষয় ছিল দুশমনদের সঙ্গে
তাঁদের সৈন্যসংখ্যার অনুপাত। একজন
মুসলমানের বিপরীতে দুশমনের সৈন্য ছিল
তিন জন। মুসলমানদের এ ক্ষুদ্র দলটি তখন
কুরাইশদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য আদৌ
প্রস্তুত ছিল না, তেমন কোনো অভিপ্রায়ও
তাঁদের ছিল না। আবু সুফিয়ানের
কাফেলার কথাই ছিল সবার মন জুড়ে।
নবী করীম (সা.) ছাড়া কেউ ভাবতেও
পারেননি যে, এমনি অবিশ্বাস্যভাবে
তাঁদেরকে যুদ্ধের ময়দানে কুরাইশদের এক
বিরাট অস্ত্র সজ্জিত বাহিনীর
মোকাবেলা করতে হবে। ধাফিবান
উপত্যকায় আবু জাহলের বাহিনীর
উপস্থিতির সংবাদ তাঁদের কাছে ছিল
এক চরম বিস্ময়। নতুন পরিস্থিতিতে
মহানবী (সা.) সাহাবীদের সঙ্গে
পরামর্শের জন্য তাঁর আগের স্থানে ফিরে
গেলেন। প্রথমে সাহাবীদের একটি অংশ
তাঁর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ
করার ঘোষণা করলেন। কিয়ৎকালের
নীরবতা ও ইতস্তত ভাব কাটার পর যুদ্ধ
করার ব্যাপারে সর্বসম্মতিক্রমে
সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো। মুহাম্মাদ (সা.)
নির্দেশ জারি করলেন : ‘এগিয়ে যাও,
আল্লাহ দুটি দলের একটির ব্যাপারে
আমার নিকট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’ (আবু
সুফিয়ানের কাফেলা অথবা আবু জাহলের
বাহিনীর ওপর বিজয়)। অবশ্য একদিন পর
মুসলমানরা বুঝতে পারলেন যে, কাফেলা
তাঁদের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে।
দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজান শুক্রবার উভয়
বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। (সম্ভবত
৬২৪ খ্রিস্টাব্দের ১৪ জানুয়ারি)
মুসলমানদেরকে যুদ্ধের ময়দানে সারিবদ্ধ
করে প্রস্তুত রেখে মহানবী (সা.) আকুল
চিত্তে কা’বার দিকে মস্তক ফিরালেন।
তিনি তাঁর নামায নিম্নোক্ত মোনাজাত
দ্বারা শেষ করলেন : ‘হে আল্লাহ!
কুরাইশরা তাদের সহায়তাকারীদের
নিয়ে তোমার নবীকে মিথ্যা প্রমাণিত
করার জন্য এসেছে। হে প্রভু! ইতিপূর্বে
যে প্রতিশ্রুতি তুমি দিয়েছ সে জন্য
তোমার সাহায্য আমাদের প্রয়োজন। হে
পরওয়ারদিগার! সংখ্যা স্বল্পতার কারণে
যদি আমরা ধ্বংস হই তবে তোমার ইবাদত
করার কেউই থাকবে না।’ যুদ্ধের শুরুতে
শায়বা, রাবিয়ার পুত্র উতবা এবং উতবার
পুত্র ওয়ালিদ মুসলমানদের প্রতি একক
যুদ্ধের শক্তি পরীক্ষার আহ্বান জানায়।
নবী করীম (সা.)-এর নির্দেশে নবীর
পিতৃব্য হযরত হামযা, হারিশের পুত্র
উবাইদা, আবু তালিবের পুত্র আলী (আ.)
যথাক্রমে উক্ত তিনজনের সম্মুখীন হলেন।
হামযা এবং আলী শীঘ্রই তাঁদের দুশমনদের
হত্যা করলেন, কিন্তু উবাইদা উতবার
দ্বারা আহত হলেন। তবে পর মুহূর্তেই হযরত
আলী (আ.)-এর তরবারির আঘাতে উতবাও
নিহত হলো। এ মল্লযুদ্ধে মুসলমানদের
বিজয়ের পর পরই এক প্রতিশোধমূলক যুদ্ধের
সূচনা হলো। মুসলমানরা বীরত্বের সঙ্গে
যুদ্ধ করলেন। শেষাবধি কাফেররা ১৭ জন
নিহত এবং ৭০ জন বন্দি রেখে চরম
বিপর্যস্ত অবস্থায় ময়দান ত্যাগ করে।
যারা তলোয়ারের আঘাতে নিহত
হয়েছিল তাদের মধ্যে এগারো জন ছিল
মক্কার গোত্রপতি যারা মক্কা ত্যাগের
অল্প কয়েকদিন আগে মহানবীকে হত্যা
করার পরিকল্পনা করেছিল। তাদের মৃত্যু
কুরাইশ নেতৃত্বের প্রতি মারাত্মক আঘাত
হানে। মুসলমানদের পক্ষে ১৪ জন শহীদ
হয়েছিলেন। কিন্তু মুসলমানদের
ইতিহাসের এই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে
তাঁদের ভূমিকা ছিল অনেকটা যন্ত্রের
মতো। এটি ছিল অলৌকিক বিজয়। পবিত্র
কোরআনে বলা হয়েছে : ‘তোমরা
(মুসলমানরা) তাদের হত্যা করনি; বরং
আল্লাহই তাদের হত্যা করেছেন।’ (সূরা
আনফাল : ১৭) রাসূল (সা.) শুধু মুসলমানদের
প্রতিই নয়; বরং সবার প্রতি ছিলেন
রহমদিল এবং ক্ষমার মনোভাবসম্পন্ন।
বদরের যুদ্ধ বন্দিদের সঙ্গে যে ব্যবহার
করা হয়েছে তা এই সত্যকেই যথার্থভাবে
প্রমাণ করে। কিছুসংখ্যক মুসলমানকে
অভুক্ত রেখেও বন্দিদের যথারীতি আহার
সরবরাহ করা হয়েছে। মানবজাতির
ইতিহাসে এর নজির নেই বললেই চলে।
বন্দিদের মুক্তিপণ নির্ধারণ করা
হয়েছিল এভাবে : বন্দিদের মধ্যে যারা
লেখাপড়া জানে তারা দশজন করে
মুসলিম বালককে শিক্ষা দিবে।

আশুরার ইতিহাস (সংক্ষিপ্ত)

মুহাররাম মাসের ১০ তারিখ আশুরা
যেদিন মুসা (আ.) লোহিত সাগর পাড়ি
দেন বনী ইসরাইলকে নিয়ে আর সাগরে
নিমজ্জিত হয় ফেরাউন ও তার বাহিনী।
আশুরার দিন করনীয় ------
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত,
তিনি বলেন,
নবী করিম সাল্লাল্লাহু (সা) মদিনায়
আগমন করে দেখতে পেলেন ইহুদিরা
আশুরার দিন রোজা পালন করছে। নবীজী
বললেন , এটি কি? তারা বলল, এটি একটি
ভাল দিন। এ দিনে আল্লাহ তাআলা বনি
ইসরাইলকে তাদের দুশমনের কবল থেকে
বাঁচিয়েছেন। তাই মুসা (আ.) রোজা পালন
করেছেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, মুসাকে
অনুসরণের ব্যাপারে আমি তোমাদের
চেয়ে অধিক হকদার। অত:পর তিনি রোজা
রেখেছেন এবং রোজা রাখার নির্দেশ
দিয়েছেন। {বোখারি:১৮৬৫}
আশুরার রোযা রাখার নিয়ম -------
৯ ও ১০ তারিখ অথবা ১০ এবং ১১-এ
মুহাররাম রোযা রাখা কারন সুধু ১০
তারিখ ইহুদিরা রোযা রাখে।
রাসুল (সা) বলেছেন "যদি আমি আগামী
বছর বেঁচে থাকি তাহলে ৯ই মুহাররাম
রোযা রাখব'' (মুসলিম) ।
তাই আমরাও আশুরার দিনের সাথে তার
আগের দিন বা পরের দিন রোযা রাখার
চেষ্টা করব ইনশাহ-আল্লাহ্ ।
উল্লেখ্য:
এই দিনে শিয়ারা যেটা করে থাকে
(নিজের শরির কাটা) এরকম কোন কিছু
কুরআন ও সাহিহ হাদিসে নেই। নিশ্চই
কুরআন ও সাহিহ হাদিসের বাইরের কোন
কিছুকে ইসলামিক রিতী হিসেবে মানা
চরম অন্যায়।

আবু বকর সিদ্দীক (রা) এর একটি ঘটনা এবং আমাদের জন্যে শিক্ষা

আবু বকর সিদ্দীক (রা) এর এই ঘটনাটি
মোটামুটি আমরা সবাই জানি, কিন্তু
ঘটনাটির মাঝে একটি গুরত্বপূর্ণ শিক্ষণীয়
বিষয় রয়েছে যা আমাদের অনেকেরই নজর
এড়িয়ে গেছে। ইনশাল্লাহ, সেই বিষয়েই
এখানে আলোকপাত করব।
আহমদ ইবনে হাম্বল রহিমাহুল্লাহ কর্তৃক
বর্ণিত, জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা) এই
হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
রাসূল ﷺ মিরাজ থেকে
ফিরে এসেছেন। সকালবেলা তিনি যখন
মক্কার কুরাইশদের মিরাজের ঘটনাটি
বললেন তখন কুফ্ফার সম্প্রদায় হাসি-
তামাশায় লিপ্ত হয়েছিল। মক্কার এই
কুরাইশ সম্প্রদায়ের কুফ্ফারগণ ছিলেন
অনেকটা বস্তুবাদি। যা দেখা, যায় ধরা
যায়, ছোয়া যায় শুধু তাই তারা আমলে
নিত। রাসূল ﷺ এর মিরাজের
ঘটনাটিকে তারা একটা হাতিয়ার
হিসেবে ধরে নিল আর এর মাধ্যমে
মিরাজের ঘটনাটিকে মিথ্যা প্রমাণ
করতে চাইল। কুফ্ফার সম্প্রদায়ের কিছু
লোক আবু বকর সিদ্দীক (রা) এর নিকট
গেলেন। তিনি বাণিজ্য থেকে কিছুক্ষণ
আগে ফিরে এসেছেন, তাই তখনও রাসূল
ﷺ এর সাথে দেখা করতে
পারেননি। কুফ্ফার সম্প্রদায় তাকে বলল,
শুনেছ কি তোমার সঙ্গী কি সব বলা শুরু
করেছে? সে বলছে, সে নাকি এক রাতের
মধ্যে মক্কা থেকে বাইতুল মাকদাস
(জেরুজালেম) যেয়ে আবার মক্কায় ফিরে
এসেছে।
আবু বকর (রা) বললেন, এই কথাগুলো কি
তিনি বলেছেন?
তারা জবাব দিল, হ্যাঁ।
এরপর আবু বকর (রা) বললেন, আমি সাক্ষ্য
দিচ্ছি, যদি তিনি সত্যিই বলে থাকেন,
তাহলে তিনি সত্য বলেছেন।
কুফফার সম্প্রদায়ের বিস্ময়ে চোখ
কপালে উঠে গেল। তারা বলল, তুমি
বিশ্বাস কর সে বৃহত্তর সিরিয়ায় যেয়ে
আবার এক রাতের মধ্যে ফিরে এসেছে!
আবু বকর (রা) বললেন, আমি তাকে বিশ্বাস
করি বরং এর চেয়েও বেশী বিশ্বাস করি
ঐসব বিষয়ে যেগুলো তাঁর নিকট ওহী
হিসেবে এসেছে।
মোটামুটি এই ঘটনাটুকু আমরা সবাই জানি,
কোন বইতে পড়ে কিংবা কারো নিকট
থেকে এই ঘটনা শুনে আমরা পুলকিত হই
কিন্তু এই ঘটনার মাঝে গুরুত্বপূর্ণ একটি
হিকমা রয়েছে যা আমাদের অনেকেরই
নজর এড়িয়ে গেছে।
কুফ্ফার সম্প্রদায় যখন আবু বকর (রা) কে
রাসূল ﷺ এর মিরাজ সম্পর্কিত
কথাটি বলল তখন, আবু বকর (রা) এর যদি
দূর্বল ঈমান থাকত তাহলে তিনি বলতেন,
না এই ঘটনাটি সত্য নয় অথবা, আবু বকর (রা)
যদি এমন হতেন যাকে খুব সহজেই কথার
চাতুরী দ্বারা অভিভূত করা যায় তাহলে
তিনি বলতেন ঘটনাটি সত্য। আবু বকর (রা)
চমৎকারভাবে উত্তর দিয়েছিলেন,
মাশাল্লাহ। তিনি ঘটনাটি শুনেছেন
কুফ্ফারদের নিকট থেকে আর তাই আবু বকর
(রা) বললেন, যদি তিনি সত্যিই বলে
থাকেন, তাহলে তিনি সত্য বলেছেন।
এর দুইটি অংশ রয়েছে, প্রথমত, ‘যদি তিনি
সত্যিই বলে থাকেন’ – হাদীস
বিশেষজ্ঞগণ এই পদ্ধতীতে কাজ করেন,
অর্থাৎ যদি উৎস সত্যিই রাসূল
ﷺ এর নিকট থেকে আসে-
দ্বিতীয়ত, তাহলে তা সত্য। সেটা হচ্ছে
ওহী, আল্লাহর নিকট থেকে রাসূল
ﷺ এর উপর নাযিলকৃত। অর্থাৎ
সহীহ হাদীস পাওয়া গেলে তার উপর
বিশ্বাস স্থাপন করা, সেই অনুযায়ী কর্তব্য
পালন করা ঈমানী দায়িত্ব, কারণ সেটা
ওহী। এমন কথা বলা যাবে না যে, এটা
তো আমার যুক্তিতে টিকল না বা আমার
বাপ-দাদাদের কখনও এমন কিছু বলতে বা
করতে দেখিনি কিংবা আমার মাযহাবে
এমনটি সমর্থন করে না’।
আবু বকর সিদ্দীক (রা) এর এই ঘটনা থেকে
আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বিষয়
হচ্ছে এটাই, রাসূল ﷺ এর কথা
সহীহভাবে আমাদের নিকট পৌছালে
বিনা বাক্য ব্যয়ে তা মেনে নিতে হবে,
তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে এবং
সেই অনুযায়ী কর্ম পালন করতে হবে।
সেটা আমার নিকট যুক্তিতে টিকুক আর না
টিকুক, আমার চারপাশে লোকজন সেটা
মানুক আর না মানুক আমাকে রাসূল
ﷺ এর কথায় বিশ্বাস স্থাপন
করতেই হবে এবং তার যথাসাধ্য অনুসরণ
করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের রাসূল
ﷺ এর সাহাবীদের মতো করে
দ্বীন ইসলামকে বুঝার তৌফিক দান করুন
এবং সেই অনুযায়ী আমল করার তৌফিক
দান করুন। আমীন।

Tuesday, 27 September 2016

যেভাবে আজানের উদ্ভব








ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী প্রকাশ্যে বিশ্ববাসীকে নামাজের জন্য আহ্বান করা বিপজ্জনক ছিল বলে মুসলমানদের প্রথম দিকে গোপনে নামাজে ডাকা হতোমদিনায় আগমনের পর রসুলুল্লাহ (সা.)-এর নেতৃত্বে একটি সভা আহ্বান করা হলোসে সভায় এ সম্পর্কে নানা প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলো, কিন্তু একটিও হজরতের মনঃপূত হলো না সময়ে ওমর (রা.) হজরতকে বললেন, তিনি স্বপ্নে দেখেছেন, কে যেন তাকে আজানের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে শিক্ষা দিচ্ছেনহজরত যুক্তিতর্কের সাহায্যে আজানের তত্ত্ব উপলব্ধি করে তা গ্রহণ করলেন এবং তখন থেকে ইসলামী দুনিয়ায় আজানের রীতি প্রবর্তিত হলোহাবশি মুসলমান হজরত বিলাল সর্বপ্রথম মুয়াজ্জিন নিযুক্ত হয়ে মুসলমানদের নামাজ পড়ার জন্য আজান দিয়ে আহ্বান করলেনদৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং নামাজের আগে ওজুর রীতিও প্রবর্তিত হলোপ্রত্যেক শুক্রবার দুপুরবেলা মুসলমানদের সংঘবদ্ধ হয়ে নামাজ পড়ার প্রথা ধারাবাহিক রূপ পরিগ্রহ করল (প্রথম হিজরি, ৬২২ খ্রি.)
জেরুজালেম প্রথমে মুসলমানদের কিবলা ছিল, কিন্তু রসুলুল্লাহ (সা.) উপলব্ধি করেন যে, ইসলাম ইহুদি ধর্মের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলতে পারে নাতখন তিনি মক্কার কাবাঘরের দিকে মুখ করে নামাজ পড়ার আদেশপ্রাপ্ত হন। (হে নবী!) তুমি নিজের মুখ মসজিদে হারামের (কাবার) দিকে ফিরাও এবং তোমরা যেখানেই থাক না কেন সেদিকেই নিজেদের মুখ ফেরাবেসে সময় থেকেই জেরুজালেমের পরিবর্তে কাবা ইসলামের কিবলা হলোএ ঘটনা দ্বিতীয় হিজরিতে (৬২৩ খ্রি.) সংঘটিত হয় ইতিহাসবিদ আর্নল্ডের মতে, কিবলার পরিবর্তন ইসলামের জাতীয় জীবনে প্রথম পদক্ষেপএটা মক্কার কাবাঘরকে সমগ্র মুসলিম জাতির ধর্মীয় কেন্দ্রস্থলে পরিণত করে
ইহুদিরা তাদের ধর্মপুস্তক তাওরাতে একজন মহানবীর আগমন সম্পর্কে জানতে পেরেছিলসুতরাং যখন হজরত মদিনায় এলেন, তখন তারা তাকে প্রতিশ্রুত নবী বলে স্বীকার করলকিন্তু সত্বরই তারা হিংসা ও ধর্মান্ধতার বশবর্তী হয়ে ভিন্নমত পোষণ করতে লাগল এবং শত্রুতায় লিপ্ত হলোহজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় এসে ইহুদি ধর্মবিধির সঙ্গে ইসলামের ঐক্য স্থাপনের জন্য ইহুদিদের উপবাস প্রথা গ্রহণ করেছিলেনকিন্তু যখন ইহুদি ধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন তখন তিনি তাদের উপবাস প্রথার পরিবর্তে আল্লাহর কাছে নিজেদের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থনা জানালেন
দেড় বছর পর (৬২৩ খ্রি.) আল্লাহর আদেশ হলো, রমজান মাসে রোজা রাখতে হবে তখন থেকে রমজান মাসে রোজা পালন মুসলমানদের জন্য ফরজ বলে বিবেচিত হচ্ছে পরবর্তী মাসের চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গে রোজা শেষ এবং পরদিন ঈদুল ফিতরনামে ধর্মীয় মহোৎসব উদ্যাপিত হয়এর প্রায় আড়াই মাস পর (জিলহজ মাসে) হজ করার কথাও ঘোষিত হয়এ সময় ঈদুল আজহানামে আর একটি উৎসব প্রবর্তিত হয় হিজরিতে রসুলুল্লাহ (সা.) জাকাত সম্পর্কেও প্রত্যাদেশ লাভ করেনবিখ্যাত অভিধান রচয়িতা রাগিবের মতে, জাকাত হলো ধনীর কাছ থেকে গৃহীত দরিদ্রকে প্রদত্ত অর্থ
- See more at: http://www.bd-pratidin.com/editorial/2016/01/19/121763#sthash.C8ITYtbA.dpuf

উমর বিন আব্দুল আযীযের সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখ এবং হাদীস সংকলনে তার ভূমিকা

হযরত উমর বিন আব্দুল আযীযের দুই বছরের শাসনামল অত্যন্ত একটি গৌরাবজ্জ্বল অধ্যায়।তার এই সংক্ষিপ্ত শাসনামলে একটি বড় পদক্ষেপ ও কৃতিত্ব হল হাদীসসমূহকে একত্রিত করা। মুহাম্মদ(সাঃ) এর ওফাতের পর থেকে যখন কালক্রমে সহীহা হাদীস মুসলিমগণের ভিতর থেকে চলে যাচ্ছিল আর জাল হাদীসের ব্যাপক প্রচলন শুরু হয় ঠিক তখন থেকে উমর বিন আব্দুল আযীয হাদীস সংকলনের নির্দেশ্ রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রদান করে হাদীসের ইতিহাসে একটি মাইলফলক স্থাপন করে।হাদীসশাস্ত্রে তার এই অবদান নিম্নে দেওয়া হলঃ

জন্ম ও বংশ পরিচয় 

উমর বিন আব্দুল আযীয ছিলেন উমাইয়া বংশের ৮ম খলীফা।তিনি সুলায়মানের মৃত্যুর পর থেকে সেখানে খলীফা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।তার পিতা ছিল আব্দুল আযীয যিনি খলীফা মালিকের ভাই ছিলেন এবং তার মা ছিলেন ইসলামের ২য় খলীফা উমর(রাঃ) এর দৌহিত্রী।উমর(রাঃ) এর মত পার্থিব বিষয়ে অনাসক্তি,কঠোর কর্তব্যনিষ্ঠা, ন্যায়নিষ্ঠা,অনাড়ম্বতা ও ধর্মপরায়ণতার জন্যে তাকে ঐতিহাসিকগণ ২ঊ উমর বলে অভিহিত করে থাকেন। তার স্ত্রী ছিলেন ফাতিমা যিনি আব্দুল মালিকের মেয়ে ছিলেন।

শিক্ষা ও হাদীস বর্ণনা

তিনি একজন তাবিঈ ছিলেন।তিনি প্রথমতঃ মদীনার মুহাদ্দিস সালিহ বিন কায়সানের কাছে থেকে হাদীস ও দ্বীনী ইলম অর্জন করেছিলেন।এরপর তিনি মদীনার শাসনকর্তা হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন মনীষীবৃন্দের সম্পর্কোন্নয়ন করে ইলমে হাদীস ও অন্যান্য বিষয়ে জ্ঞানার্জন করতেন।তিনি নিজেই বলে থাকেন যে, আমি যখন মদীনায় গেলাম তখন আমার চেয়ে বড় (হাদীসে) জ্ঞানী আর কেউ ছিল না।
তিনি অসংখ্য সাহাবী এবং তাবিঈগণ হতে অধিকা হাদীস বর্ণনা করতেন। তার মত এত বিপুল সংখ্যক হাদীস আর কেউ বর্ণনা করতে পারতেন না।হাফিয যাহাবী বলেন,
উমর বিন আব্দুল আযীয ইমাম,ফিকহীবিদ,মুজতাহিদ,সুন্নাত ও হাদীসে বিশেষ পারদর্শী, সুমহান মর্যাদাসম্পন্ন, লব্দ্ব প্রতিষ্ঠিত হাদীস বিশারদ,গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য হাদীস বর্ণনাকারী,হাদীসের হাফিয, আল্লাহর হুকুম পালনকারী, বিনয়ী ও আল্লাহভক্ত লোক ছিলেন।

খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ

তিনি ৯৯ হিজরী সনে তার ক্ষমতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।তিনি একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক ছিলেন। তিনি কথায় ও কাজে ইসলামী ভাবধারার আদর্শের অনুসারী ছিলেন।আমীরে মুয়াবিয়া(রাঃ) এর শাসনের পর থেকে উমাইয়া শাসকদের ভিতর চরম বৈষম্য, রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, প্রবঞ্চনা, প্রতারণা চলে আসছিল।তিনিই সর্বপ্রথম ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার প্রতি মনোনিবেশ করেছিলেন।
মুআবিয়ার শাসনামলে হাশমীয়দের সকল ধরনের সূযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়।কিন্তু উমর বিন আব্দুল আযীয তার রহিত করে দেন এবং সবার মাঝে পুনরায় ভাতা শুরু করেন।গোড়া মুসলিম তথা খারিজীগণ তার প্রতি চরম আনুগত্য প্রকাশ করেছিল।তিনি অনারব মুসলিমদের উপর আরোপিত সকল ধরনের জিযয়া মওকূফ করে দেন।তিনি উমাইয়দের আরোপিত আফ্রিকার বার্বাদের শিশুকর মওকূফ করে দিয়ে তিনি বার্বারদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন।তিনি বনু উমাইয়াদের সকল অবৈধভাবে উপার্জিত সম্পদ বাজয়াপ্ত করেছিলেন। এ কারণে সারা মুসলিম জাহানে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।এইজন্যে তাকে খুলাফায়ে রাশেদীন ৫ম বলা হত।কিন্তু তার এই শাসন নীতিকে তার পরিবারের লোকেরা সহজে মেনে নিতে পারে নাই বলে তার এক বিশ্বস্ত ভৃত্যকে দিয়ে তাকে হত্যা করা হয় ৭২০ খৃষ্টাব্দে(১০১ হি)।তার খিলাফতকালে ছিল মাত্র দুই বছর ছয় মাস।

হাদীস সংকলনে উমর বিন আব্দুল আযীযের কার্যক্রমের ধারা

হযরত বিন আব্দুল আযীয ৯৯ হিজরী সালে খলীফা হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি তার খিলাফতের দায়িত্ব পালনের সময় হাদীস সংকলনের এক বিরাট প্রয়োজনীয় তা অনুভব করছিলেন। তিনি সেই সময় হাদীস সংকলের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন। তিনি যেই সকল কারণে হাদীস সংকলনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করলেন তার কারণসমূহ নিম্নরুপঃ

হাদীস সংকলনের কারণসমূহ

১। ইসলামী জীবন যাপন ও খিলাফতের হুকুমত প্রতিষ্ঠার জন্য হাদীস সংকলনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
২। যদি হাদীসসমূহ সংকলন না করা হয় তাহলে অনতিবিলম্বে মুসলিমগণের ভিতর থেকে হাদীস বিলুপ্তির আশংকা দেখা দেয়।কারণ অনেক সাহাবা আগেই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে যায়।তাবিঈদের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য ছিল। তারাও যে অনেকদিন জীবিত থেকে হাদীস মুখস্থের মাধ্যমে সংরক্ষণ রাখতে পারবে তার কোন নিশ্চিয়তা ছিল না।
৩। ব্যপক আকারে জাল হাদীসের শ্রয়লাভ সমাজে বিস্তার করেছিল। কোন হাদীসটি সঠিক ও কোনটি বেঠিক তা নির্ধারণ করা দুরুহ হয়ে দাড়িয়েছিল। তাই হাদীসের সত্য-মিথ্যা নিরুপণে এর প্রয়োজনীয়তা সকলে উপলব্দ্বি করেছিল।

 হাদীস সংকলনেরর জন্য খলীফার গৃহীত নীতিমালা

উমর বিন আব্দুল আযীয হাদীসকে লিপিব্দ্ব করার জন্য ধাপে ধাপে কিছু নীতিমালা গ্রহণ করেন।হাদীস সংকলনের জন্য তার কার্যক্রম নির্ধারণে গৃহীত নীতিমালাসমূহ নিম্নরুপঃ

বিভিন্ন রাজ্যের শাসকদের ফরমান জারী

উমর বিন আব্দুল আযীয হাদীসশাস্ত্রের এই অববিলুপ্তিকে রোধ করার জন্য যখন তা সংকলের প্রয়োজনীয়া অনুভব করলেন,তখন সেই কথা তিনি তার রাজ্যের বিভিন্ন শাসকবর্গের নিকট চিঠি প্রেরণ করেছিলেন। তিনি  যা বলেছিলেন তার ভাষা ছিল নিম্নরুপঃ
রাসূলের হাদীসের প্রতি দৃষ্টি দাও এবং তা সংগ্রহ ও সংকলন করতে শুরু কর।
তিনি তৎকালীণ মদীনার শাসক আবূ বকর বিন হাযমের কাছে এই পত্র প্রেরণ করেছিলেন যে,
রাসূলের হাদীস, তার সুন্নাত কিংবা উমরের বাণী অথবা তার মত কিছু পেলে তার প্রতি দৃষ্টি দাও এবং তা লিখে ফেল। কেননা আমি আশংকা করছি যে, ইলমে হাদীসের ধারকদের অন্তর্ধান এবং হাদীস সম্পদের বিলুপ্তির আশংকা বোধ করছি।
তার আরেকটি উক্তি থেকে উপলব্দ্বি করা যায় যে, হাদীসশাস্ত্রের প্রসারে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত বলিষ্ঠ যা হলঃ
আর হাদীসে রাসূল ছাড়া যেন কিছুই গ্রহণ না করা হয়।লোকেরা যেন ইলমে হাদীস ব্যাপকভাবে প্রচার করে। হাদীস শিক্ষাদানের জন্য যেন মজলিশ অনুষ্ঠিত হয় যারা জানে না তাদের যেন শিখানো হয়।কারণ ইলম গোপন হলে তা বিনাশপ্রাপ্ত হবে।
ঐতিহাসিক বিন  সায়াদ উমর বিন  আব্দুল আযীযের ফরমানের আরেকটি অংশের কথাও উল্লেখ করেছিলেন। তার উদ্বৃত অংশটুকু নিম্নে দেওয়া হলঃ
উমর ইবনে আব্দুল আযীয আবূ বকর বিন আযমকে উমরা বর্ণিত হাদীসমূহ লিখে তার নিকট পাঠানোর জন্য ফরমান পাঠিয়েছিলেন।

আয়শা সিদ্দীকা(রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসসমূহ লিপিবদ্ব করার জন্য আহবান
ইবনে সয়াদ এই কথাও উল্লেখ করেছিলেন যে, ২য় উমর আয়শা সিদ্দীকা(রাঃ) এর হাদীসসমূহ লিপিবদ্ব করার জন্য জন্য আদেশ প্রদান করেছিলেন। আর উমর বিন আব্দুল আযীয উমরা বিনতে আব্দুর রহমানের নিকট হতে বর্ণিত হাদীসসমূহ লিপিবদ্ব করার ব্যাপারে বিশেষভাবে জোড় প্রদান করেছিলেন। কেননা এই উমারা বিনতে আব্দুর রহমান আয়শা(রাঃ) এর কোলে বিশেষভাবে লালিত-পালিত হন এবং তার কাছে থেকে  আকাইদ ও শরীয়াতের আহকামের ব্যাপারে হাদীসসমূহ লিপিবদ্ব করার ব্যাপারে বিশেষভাবে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।উমর বিন আব্দুল আযীয নিজেই এই উমারার ব্যাপারে বলেছেন,
আয়শার বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে উমরা থেকে বড় আলিম আর কেউ ছিল না।
ইমাম যুহরী বলেছিলেন,
আমি তাকে হাদীস জ্ঞানের এক অফুরন্ত সমুদ্রের মত পেয়েছিলাম।
কাসিম বিন আবূ বকর ছিলেন হযরত আয়শা(রাঃ) এর ভাতিজা। তার পিতা যখন নিহত হন তখন তিনি তার ফুফু আয়শা(রাঃ) এর নিকট লালিত-পালইত হন এবং তার কাছে থেকে দ্বীন জ্ঞান অর্জন করেন।
এই কাসিম বিন আবূ বকরের ব্যাপারে ইবনে হাব্বান বলেন,
কাসিম তাবিঈ এবং তার সময়কার লোকদের মধ্যে হাদীস ও দ্বীনের জ্ঞানের দিক দিয়ে সর্বোত্তম ছিলেন।
তিনি সেই সেই সময়ে মদীনার একজন প্রধান ফকীহ ছিলেন এবং ইসলামী আইন-কানূনে তার নিকট অতুলনীয় পারদর্শিতা ছিল। উমরা বিনতে আব্দুর রহমানের নিকট বর্ণিত যাবতীয় হাদীসসমূহ তিনি লিপিবদ্ব করে রাখতেন।এভাবে করে তিনি অসংখ্য হাদীস লিপিবদ্ব করেছিলেন কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তা খলীফার মৃত্যুর আগে দারুল খিলাফতে পৌছানো সম্ভব হয় নাই।যদিও কেউ বলে থাকেন যে, পরবর্তীতে তা বিলুপ্ত হয়ে যায় । কিন্তু তা প্রকৃতপক্ষে সত্য নয়।মূলত তা সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে হাদীসের বিকাশে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

উমর(রাঃ) এর যাকাত সংক্রান্ত হাদীস সংগ্রহে দিক-নির্দেশনা
হাযম বিন আবু বকর ছাড়াও ২য় উমর সেই সময় সালিম বিন আব্দুল্লাহকে হাদীস সংকলনের দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। আল্লামা সুয়ূতী লিখিছেন যে,
উমর বিন আব্দুল আযীয সালিম বিন আব্দুল্লাহকে হযরত উমরের যাকাত ও সদকা সম্পর্কে অবলম্বিত রীতি-নীতি লিখে পাঠানোর জন্য আদেশ করেছিলেন।
সুয়ূতী সালিম সম্পর্কে লিখেছিলেন,
সালিম যেই বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছিলেন তা তিনি পুরোপুরি লিখে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। সেই সাথে সালিম তাকে এটাও লিখিছিলেন যে, উমর(রাঃ) তার আমলেও তদান্তীন লোকদের মধ্যে অনুরুপ কাজ করেন তবে আপনি আল্লাহর নিকট উমর ফারুক থেকে উত্তম বলে বিবেচিত হবে।
এই ব্যাপারে মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আনসারী বলেন,
উমর বিন আব্দুল আযীয যখন খলীফা হিসেবে নির্বাচিত হলেন,তখন মদীনায় রাসূলে করীমের ও উমরের যাকাত সংক্রান্ত দস্তাবেজ সংগ্রহের জন্য তাকীদ করে পাঠালেন।পরবর্তীতে আমর বিন হাযমের বংশ এবং উমর(রাঃ) এর বংশধর থেকে দস্তাবেজ পাওয়া গেল।

ইমাম যুহরীকে বিশেষ দায়িত্ব অর্পন
উমর বিন আব্দুল আযীয ইমাম যুহরীকে হাদীস সংকলনের জন্য বিশেষভাবে দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন। ইমাম যুহরীর ব্যাপারে স্বয়ং উমর বিন আব্দুল আযীয নিজেই বলেছেন,
সুন্নাত ও হাদীস সম্পর্কে যুহরীর থেকে বড় আলিম বিগত কালে আর কেউ ছিলেন না।
এ সম্পর্কে ইমাম ইবনে যুহরী(রঃ) বলেন,
উমর বিন আব্দুল আযীয আমাদেরকে হাদীস সংগ্রহ ও সংকলনের জন্য আদেশ করলেন। এই আদেশ পেয়ে আমার হাদীস গ্রন্থ লিপিবদ্ব হয়,তারপর তা তার রাজ্যে পাঠানোর পর রাজ্যের প্রত্যকটি প্রদেশে এক খানি গ্রন্থ পাঠিয়ে দেন।
এটি যে সর্বপ্রথম সংকলিত হাদীস তাতে কোন সন্দেহ নেই।তাই ইমাম মালিক (রঃ) বলেন,
সর্বপ্রথম যিনি হাদীস সংকলন করেন তিনি হলেন ইবনে শিহাব যুহরী।
ইমাম ইবনে যুহরী নিজেই স্বীকার করে বলেছেন,
আমার পূর্বে কেউ হাদীস আর সংকলিত হয় নাই।

খলীফার নিজের পক্ষ থেকে হাদীস সংকলন
হাদীস শিক্ষা দান করার পাশাপাশি উমর বিন আব্দুল আযীয রাসূলুল্লাহ(সাঃ) এর যুদ্ব-বিগ্রহের শিক্ষা-দীক্ষা এবং চরিত্র গঠনের শিক্ষা দেওয়ার জন্য দামেশকের জামে মসজিদে বসে উমর কাতাদাহকে প্রেরণ করেছিলেন।
উমর বিন আব্দুল আযীয শুধুমাত্র হাদীস সংগ্রহ ও লিপিবদ্ব করার নির্দেশ প্রদান করেন নাই,বরং তার শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করার জন্য সুস্পষ্টভাবে ফরমান জারী করেছিলেন। তিনি একজন শাসকের কাছে এই ফরমান জারী করেছিলেন যে, প্রত্যেক বিদ্বন ব্যক্তি যেন হাদীসের সুশিক্ষা সকলের নিকট যথযথভাবে পৌছিয়ে দেয়। তা না হলে হাদীসের শিক্ষার অস্তিত্বকে তিনি হুমকিস্বরুপ মনে করতেন।
উমর বিন আব্দুল আযীয শুধুমাত্র সকলকে হাদীস সংগ্রহএর জন্য তাগিদ দেন নাই বরং তিনি নিজেও হাদীস সংকলন করতেন। তার হাদীস সংকলনের ব্যাপারে এমন দৃষ্টান্ত আছে যে, তিনি একবার যুহরের নামাযের সময় মসজিদ গমন করেন এবং বের হন আসরের নামাযের সময়।তখন তার হাতে বেশ কিছু দস্তাগত কাগজ ছিল যার ভিতর আউন বিন আব্দুল্লাহর বর্ণিত হাদীস লিপিবদ্ব হয়।

ইমাম যুহরী ব্যতীত হাদীস সংকলনে অন্যান্য মুহাদ্দিসবৃন্দ
পরবর্তীতে ইমাম যুহরীর পর ইসলামী রষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে যারা হাদীস সংকলনের কাজ নিয়োজিত ছিলেন তারা হলেন,
মক্কার ইবন জুরাইজ, মদীনার ইবন ইসহাক ও ইমাম মালিক, বসরার রুবাই বিন সুবাহ ও হাম্মাদ বিন সালমা, কূফায় সুফিয়ান সাওরী, সিরিয়ায় ইমাম আওযায়ী ইয়ামানে মামার ও খুরসানে আব্দুল্লাহ বিন মুবারক।
এভাবে করে অনেকে হাদীস সংকলনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। যারা অধ্যায়ভিত্তিক হাদীস সংকলনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন তারা হলেন রুবাই বিন সুবাহ এবং সাদ বিন আবূ আরুবা।
আবার কেউ কেউ বলে থাকেন যে, ইমাম মকহুল ছিলেন সর্বপ্রথম অধ্যয়ভিত্তিক হাদীস গ্রন্থের প্রণেতা।
আবার কূফা নগরীতে ইমাম শাবী (রঃ) এ বিষয়ে হাদীসগ্রন্থ প্রণয়ন করেছিলেন যিনি কূফাতে প্রধান বিচারপতি ছিলেন।

উপসংহার


পরিশেষে বলা যায় যে, হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয সর্বপ্রথম শাসক যিনি সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে হাদীস সংকলনের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। তার এই গৃহীত পদক্ষেপের জন্য পরবর্তীতে হাদীস সংকলনের পথ একেবার উন্মুক্ত হয়ে যায়।তিনি যেই সময়ে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন তা না হলে জাল হাদীস এর সংমিশ্রনে সঠিক হাদীসসমূহ আমাদের মধ্য থেকে অতি স্বল্প সময়ে হারিয়ে যেত।তাই হাদীস সঙ্গকলনে তার অবদান অবিস্মরণীয়।

Monday, 26 September 2016

ইবরাহীম (আঃ) এর বায়তুল্লাহ নির্মাণের ঘটনা

বায়তুল্লাহ প্রথমে ফেরেশতাগণ নির্মাণ করেন।
অতঃপর হযরত আদম (আঃ) পুনর্নিমাণ করেন জিব্রীলের ইঙ্গিত মতে। তারপর নূহের তূফানের সময় বায়তুল্লাহর প্রাচীর বিনষ্ট হ’লেও ভিত্তি আগের মতই থেকে যায়। পরবর্তীতে আল্লাহর হুকুমে একই ভিত্তিভূমিতে ইবরাহীম তা পুনর্নির্মাণ করেন।
এই নির্মাণকালে ইবরাহীম (আঃ) কেন‘আন থেকে মক্কায় এসে বসবাস করেন। ঐ সময় মক্কায় বসতি গড়ে উঠেছিল এবং ইসমাঈল তখন বড় হয়েছেন এবং বাপ-বেটা মিলেই কা‘বা গৃহ নির্মাণ করেন। আল্লাহর ইচ্ছায় তখন থেকে অদ্যাবধি কা‘বা গৃহে অবিরত ধারায় হজ্জ ও ত্বাওয়াফ চালু আছে এবং হরম ও তার অধিবাসীগণ পূর্ণ শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা সহকারে সেখানে বসবাস করে আসছেন।
এ বিষয়ে কুরআনী বর্ণনা সমূহ নিম্নরূপ:
আল্লাহ বলেন,
 وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيْمَ مَكَانَ الْبَيْتِ أَن لاَّ تُشْرِكْ بِيْ شَيْئاً وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِيْنَ وَالْقَائِمِيْنَ وَالرُّكَّعِ السُّجُوْدِ- (الحج ২৬)-
‘আর যখন আমরা ইবরাহীমকে বায়তুল্লাহর স্থান ঠিক করে দিয়ে বলেছিলাম যে, আমার সাথে কাউকে শরীক করো না এবং আমার গৃহকে পবিত্র রাখো তাওয়াফকারীদের জন্য, ছালাতে দন্ডায়মানদের জন্য ও রুকূ-সিজদাকারীদের জন্য’ (হজ্জ ২২/২৬)
আল্লাহ বলেন,
وَأَذِّن فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالاً وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيْقٍ- لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ فِي أَيَّامٍ مَّعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ- (الحج ২৭-২৮)-
‘আর তুমি মানুষের মধ্যে হজ্জের ঘোষণা জারি করে দাও। তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং (দীর্ঘ সফরের কারণে) সর্বপ্রকার কৃশকায় উটের পিঠে সওয়ার হয়ে দূর-দূরান্ত হ’তে। যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থান পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং (কুরবানীর) নির্দিষ্ট দিনগুলিতে (১০, ১১, ১২ই যিলহাজ্জ) তাঁর দেওয়া চতুষ্পদ পশু সমূহ যবেহ করার সময় তাদের উপরে আল্লাহর নাম স্মরণ করে। অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার কর এবং আহার করাও অভাবী ও দুস্থদেরকে’ (হজ্জ ২২/২৭-২৮)
উপরোক্ত আয়াতগুলিতে কয়েকটি বিষয় জানা যায়। যেমন-
(১) বায়তুল্লাহ ও তার সন্নিকটে কোনরূপ শিরক করা চলবে না
(২) এটি স্রেফ তাওয়াফকারী ও আল্লাহর ইবাদতকারীদের জন্য নির্দিষ্ট হবে
(৩) এখানে কেবল মুমিন সম্প্রদায়কে হজ্জের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
হযরত ইবরাহীম (আঃ) মাক্বামে ইবরাহীমে দাঁড়িয়ে এবং কোন কোন বর্ণনা মতে আবু কুবায়েস পাহাড়ের উপরে দাঁড়িয়ে দুই কানে আঙ্গুল ভরে সর্বশক্তি দিয়ে উচ্চ কণ্ঠে চারদিকে ফিরে বারবার হজ্জের উক্ত ঘোষণা জারি করেন।
ইমাম বাগাভী হযরত ইবনু আববাসের সূত্রে বলেন যে, ইবরাহীমের উক্ত ঘোষণা আল্লাহ পাক সাথে সাথে বিশ্বের সকল প্রান্তে মানুষের কানে কানে পৌঁছে দেন। ইবনু  আববাস (রাঃ) বলেন, ইবরাহীমী আহবানের জওয়াবই হচ্ছে হাজীদের ‘লাববায়েক আল্লা-হুম্মা লাববায়েক’ (হাযির, হে প্রভু আমি হাযির) বলার আসল ভিত্তি। সেদিন থেকে এযাবত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত হ’তে মানুষ চলেছে কা‘বার পথে কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ উটে, কেউ গাড়ীতে, কেউ বিমানে, কেউ জাহাযে ও কেউ অন্য পরিবহনে করে।
আবরাহার মত অনেকে চেষ্টা করেও এ স্রোত কখনো ঠেকাতে পারেনি। পারবেও না কোনদিন ইনশাআল্লাহ। দিন-রাত, শীত-গ্রীষ্ম উপেক্ষা করে সর্বদা চলছে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও ছাফা-মারওয়ার সাঈ।
আর হজ্জের পরে চলছে কুরবানী। এভাবে ইবরাহীম ও ইসমাঈলের স্মৃতি চির অম্লান হয়ে আছে মানব ইতিহাসে যুগ যুগ ধরে। এক কালের চাষাবাদহীন বিজন পাহাড়ী উপত্যকা ইবরাহীমের দো‘আর বরকতে হয়ে উঠলো বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের সম্মিলন স্থল হিসাবে।
যেমন আল্লাহ বলেন,
وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِّلنَّاسِ وَأَمْناً وَاتَّخِذُوْا مِن مَّقَامِ إِبْرَاهِيْمَ مُصَلًّى وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيْمَ وَإِسْمَاعِيْلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِيْنَ وَالْعَاكِفِيْنَ وَالرُّكَّعِ السُّجُوْدِ- (البقرة ১২৫)-
‘যখন আমরা কা‘বা গৃহকে লোকদের জন্য সম্মিলনস্থল ও শান্তিধামে পরিণত করলাম (আর বললাম,) তোমরা ইবরাহীমের দাঁড়ানোর স্থানটিকে ছালাতের স্থান হিসাবে গ্রহণ কর। অতঃপর আমরা ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ই‘তেকাফকারী ও রুকূ-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র কর’ (বাক্বারাহ ২/১২৫)
وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيْمُ رَبِّ اجْعَلْ هَـَذَا بَلَداً آمِناً وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُم بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ قَالَ وَمَن كَفَرَ فَأُمَتِّعُهُ قَلِيْلاً ثُمَّ أَضْطَرُّهُ إِلَى عَذَابِ النَّارِ وَبِئْسَ الْمَصِيْرُ – (البقرة ১২৬)-
‘(স্মরণ কর) যখন ইবরাহীম বলল, পরওয়ারদেগার! এ স্থানকে তুমি শান্তির নগরীতে পরিণত কর এবং এর অধিবাসীদেরকে তুমি ফল-ফলাদি দ্বারা রূযী দান কর- যারা তাদের মধ্যে আল্লাহ ও ক্বিয়ামত দিবসের উপরে বিশ্বাস স্থাপন করে। (আল্লাহ) বললেন, যারা অবিশ্বাস করে, আমি তাদেরকেও কিছু ভোগের সুযোগ দেব। অতঃপর তাদেরকে আমি যবরদস্তি জাহান্নামের আযাবে ঠেলে দেব। কতই না মন্দ ঠিকানা সেটা’ (বাক্বারাহ ২/১২৬)
ইবরাহীমের উপরোক্ত প্রার্থনা অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে সামান্য শাব্দিক পার্থক্য সহকারে।
যেমন আল্লাহ বলেন,
وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيْمُ رَبِّ اجْعَلْ هَـذَا الْبَلَدَ آمِناً وَاجْنُبْنِيْ وَبَنِيَّ أَنْ نَّعْبُدَ الأَصْنَامَ- رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيراً مِّنَ النَّاسِ فَمَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّيْ وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَّحِيْمٌ- (إبراهيم ৩৫-৩৬)-
‘যখন ইবরাহীম বলল, হে আমার পালনকর্তা! এ শহরকে তুমি শান্তিময় করে দাও এবং আমাকে ও আমার সন্তান-সন্ততিকে মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখ’ (ইবরাহীম ৩৫)। ‘হে আমার পালনকর্তা! এরা (মূর্তিগুলো) অনেক মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে। অতএব যে আমার অনুসরণ করে, সে আমার দলভুক্ত। আর যে আমার অবাধ্যতা করে, নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল ও দয়াবান’ (ইবরাহীম ১৪/৩৬)
অতঃপর কা‘বা গৃহ নির্মাণ শেষে পিতা-পুত্র মিলে যে প্রার্থনা করেন, তা যেমন ছিল অন্তরভেদী, তেমনি ছিল সুদূরপ্রসারী ফলদায়ক।
যেমন আল্লাহ বলেন,
وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيْمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيْلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ- رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ- رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولاً مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيْهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ العَزِيزُ الحَكِيمُ- (البقرة ১২৭-১২৯)-
‘স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল কা‘বা গৃহের ভিত নির্মাণ করল এবং দো‘আ করল- ‘প্রভু হে! তুমি আমাদের (এই খিদমত) কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ’। ‘হে প্রভু! তুমি আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহে পরিণত কর এবং আমাদের বংশধরগণের মধ্য থেকেও তোমার প্রতি একটা অনুগত দল সৃষ্টি কর। তুমি আমাদেরকে হজ্জের নীতি-নিয়ম শিখিয়ে দাও এবং আমাদের তওবা কবুল কর।
নিশ্চয়ই তুমি তওবা কবুলকারী ও দয়াবান’। ‘হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি এদের মধ্য থেকেই এদের নিকটে একজন রাসূল প্রেরণ কর, যিনি তাদের নিকটে এসে তোমার আয়াতসমূহ পাঠ করে শুনাবেন, তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবেন এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই তুমি পরাক্রমশালী ও দূরদৃষ্টিময়’ (বাক্বারাহ ২/১২৭-১২৯)
ইবরাহীম ও ইসমাঈলের উপরোক্ত দো‘আ আল্লাহ কবুল করেছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে তাদের বংশে চিরকাল একদল মুত্তাকী পরহেযগার মানুষের অস্তিত্ব বিদ্যমান ছিল। তাঁদের পরের সকল নবী তাঁদের বংশধর ছিলেন। কা‘বার খাদেম হিসাবেও চিরকাল তাদের বংশের একদল দ্বীনদার লোক সর্বদা নিয়োজিত ছিল। কা‘বার খেদমতের কারণেই তাদের সম্মান ও মর্যাদা সারা আরবে এমনকি আরবের বাইরেও বিস্তার লাভ করেছিল। আজও সঊদী বাদশাহদের লক্বব হ’ল ‘খাদেমুল হারামায়েন আশ-শারীফায়েন’ (দুই পবিত্র হরমের সেবক)। কেননা বাদশাহীতে নয়, হারামায়েন-এর সেবক হওয়াতেই গৌরব বেশী।
ইবরাহীমের দো‘আর ফসল হিসাবেই মক্কায় আগমন করেন বিশ্বনবী ও শেষনবী মুহাম্মাদ (সাঃ)।
তিনি বলতেন, أَنَا دَعْوَةُ أَبِيْ إِبْرَاهِيْمَ وَبُشْرَى عِيْسَى- ‘আমি আমার পিতা ইবরাহীমের দো‘আর ফসল ও ঈসার সুসংবাদ’।
এই মহানগরীটি সেই ইবরাহীমী যুগ থেকেই নিরাপদ ও কল্যাণময় নগরী হিসাবে অদ্যাবধি তার মর্যাদা বজায় রেখেছে। জাহেলী আরবরাও সর্বদা একে সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখত।
এমনকি কোন হত্যাকারী এমনকি কোন পিতৃহন্তাও এখানে এসে আশ্রয় নিলে তারা তার প্রতিশোধ নিত না। হরমের সাথে সাথে এখানকার অধিবাসীরাও সর্বত্র সমাদৃত হ’তেন এবং আজও হয়ে থাকেন।