Friday, 30 September 2016

সাতশো গুণ লাভ

খেলাফতকালে এক দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হয়। খাদ্যদ্রব্য একেবারেই দুর্লভ হয়ে পড়ে এবং মানুষের দুঃখ দুর্দশা চরম আকার ধারণ করে।
সেই সময় হযরত উসমানের প্রায় এক হাজার মন গমের একটি চালান বিদেশ হতে মদীনায় পৌঁছলো। শহরের কয়েকজন ব্যবসায়ী তাঁর কাছে এল। তারা তাঁর সমস্ত গমের চালান ৫০% লাভে কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিল।
সেই সাথে তারা এও ওয়াদা করল যে, তারা দুর্ভিক্ষ পীড়িত জনগণের দুর্দশা লাঘবের জন্যই এটা কিনতে চেয়েছে।
হযরত ওসমান(রা) বললেন, “তোমরা যদি আমাকে এক হাজার গুণ লাভ দিতে পার, তবে আমি দিতে পারি। কেননা অন্য একজন আমাকে সাতশো গুণ লাভ দিতে চেয়েছেন।”
ব্যবসায়ীরা বললো, “বলেন কি? চালান মদীনায় আসার পর তো আমরাই প্রথম এলাম আপনার কাছে। সাতশো গুণ লাভের প্রস্তাব কে কখন দিলো?”
হযরত ওসমান বললেন, “এই প্রস্তাব আমি পেয়েছি আল্লাহর কাছ থেকে। আমি এই চালানের সমস্ত গম বিনামূল্যে গরীবদের মধ্যে বিতরণ করবো। এর বিনিময়ে আল্লাহ আমাকে সাতশো গুণ বেশি পূণ্য দিবেন বলে ওয়াদা করেছেন।”
শিক্ষাঃ পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ২৬১ নং আয়াতে এই ওয়াদার উল্লেখ রয়েছে।
হযরত ওসমান(রা) সম্ভবত ঐদিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
হযরত ওসমানের মহানুভবতার এই ঘটনা বিপন্ন মানুষের সেবাকে ইসলাম কত গুরুত্ব দেয়, তারই প্রমাণ বহন করে।
জনসেবা ও ত্যাগের এই মনোভাব বিশেষভাবে ধনীদের মধ্যে সঞ্চারিত হওয়া খুবই জরুরী।

Thursday, 29 September 2016

সসনিয়ন সাম্রাজ্য



ইরানে ইসলামের আগমনের পূর্বে সেখানকার সর্বশেষ সাম্রাজ্য এটি। প্রায় ৪০০ বছর ধরে এটি পশ্চিম এশিয়া ইউরোপের দুইটি প্রধান শক্তির একটি ছিল। প্রথম আর্দাশির পার্থীয় রাজা আর্দাভনকে পরাজিত করে সসনিয়ন রাজবংশের পত্তন করেন। ইসলামের আরব খলিফাদের কাছে শেষ সসনিয়ান রাজা শাহানশাহ ৩য় ইয়াজদেগের্দের পরাজয়ের মাধ্যমে সসনিয়ন সাম্রাজ্যের সমাপ্তি ঘটে। সসনিয়ন সাম্রাজ্যের অধীনস্থ এলাকার মধ্যে ছিল বর্তমান ইরান, ইরাক, আর্মেনিয়া, দক্ষিণ ককেসাস, দক্ষিণ-পশ্চিম মধ্য এশিয়া, পশ্চিম আফগানিস্তান, তুরস্কের সিরিয়ার অংশবিশেষ, পাকিসতানের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ এবং আরব উপদ্বীপের কিছু উপকূলীয় এলাকা। এক পর্যায়ে প্রায় .৫৫ মিলিয়ন বর্গমাইল এলাকা সাম্রাজ্যের আওতায় ছিল। -

মুহাম্মাদ বিন কাশিম ভারতে নিয়োগ দান




হিন্দুস্তানে ইসলাম সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে দামেস্ক-ভিত্তিক উমাইয়া খলিফাদের শাসনামলে। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে, সিন্ধু অঞ্চলে উমাইয়াদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে উমাইয়ারা মাত্র ১৭ বছর বয়সী তায়েফের এক অধিবাসীঃ “মুহাম্মাদ বিন কাশিম” কে নিয়োগ দেয়। ‘সিন্ধু’ হচ্ছে উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, যা বর্তমান পাকিস্তানের সিন্ধু নদের তীরবর্তী এলাকা। মুহাম্মাদ বিন কাশিম এর নেতৃত্বাধীন ৬০০০ সৈন্যের এক বাহিনী পারস্যের সবচেয়ে-পূর্বের ‘মাক্‌রান’ (বর্তমান সিন্ধু এবং বেলুচিস্তানের দক্ষিণে) অঞ্চলে এসে পৌঁছায়।
হিন্দুস্তানে আসার পথে তিনি তেমন বাধার সম্মুখীন হননি। সিন্ধু নদের তীরবর্তী শহর ‘নেরুন’ এর কাছাকাছি পৌঁছালে শহরের বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা তাকে স্বাগত জানান, শহরটি মূলত সন্ন্যাসীদের অধীনেই ছিল। সিন্ধু নদের তীরবর্তী অন্যান্য শহরগুলোও এরপর কোন যুদ্ধ-বিগ্রহ ছাড়াই স্বেচ্ছায় মুসলিমদের অধীনে চলে আসে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, নির্যাতিত বৌদ্ধ সংখ্যালঘুরা তাদের এলাকার হিন্দু শাসক থেকে পালিয়ে মুসলিম সেনাবাহিনীর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে।
জনসাধারণের মধ্যে সিংহভাগের মুসলিমদের প্রতি সমর্থন থাকা সত্ত্বেও, সিন্ধুর রাজা দাহির মুসলিমদের এই অগ্রযাত্রার বিরোধিতা করেন এবং মুহাম্মাদ বিন কাশিম এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। ৭১২ খ্রিস্টাব্দে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ শেষ হয় রাজা দাহিরের শোচনীয় পরাজয়ের মাধ্যমে। এই বিজয়ে পুরো সিন্ধু মুসলিমদের অধীনে চলে আসে।
উল্লেখ্য যে, সিন্ধুর জনসাধারণকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয়নি। বরং প্রকৃতপক্ষে, কারো দৈনন্দিন জীবনে কোন পরিবর্তনই আসেনি। মুহাম্মাদ বিন কাশিম তার অধীনস্থ হিন্দু ও বৌদ্ধদের নিরাপত্তা দেন এবং ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দেন। উদাহরণস্বরূপ, আগের মতোই ব্রাহ্মণরা কর সংগ্রহের দায়িত্বে আর বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা তাদের মঠ রক্ষণাবেক্ষণ এর দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে। ধর্ম পালনের এই স্বাধীনতা এবং সুবিচার প্রতিষ্ঠার কারণে, অনেক শহরের অধিবাসীরা গান-বাজনার মাধ্যমে মুহাম্মাদ বিন কাশিম এবং তার বাহিনীকে অভিবাদন জানায়।

হযরত উমর ( রা . ) - এর খিলাফত

ইসলামের
ইতিহাসে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়
অধ্যায়। এ সময়ে সভ্যতার অভিযান যে -
ভাবে ও যে- গতিতে পুরাতন জরাজীর্ণ
ঘুণেধরা পৃথিবীকে ওলটপালট করে
দিয়েছিল তার তুলনা ইতিহাসে বিরল।
যে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু
হয়েছিল রসূলুল্লাহ ( সা ) -র আমল থেকে তা
হযরত আবূ বকর ( রা. ) -এর খিলাফতের পর
হযরত উমর ( রা . ) -এর স্কন্ধেই ন্যস্ত হয়। দেশ
বিজয়ের সাথে সাথে যে সব নতুন নতুন
সামাজিক সমস্যার উদ্ভব হয়েছিল হযরত
উমর ( রা. ) -কে সেই সব সমস্যার মুকাবিলা
করতে হয়। তিনি ইসলামের মারফত
এগুলোর সমাধান খুঁজেছিলেন ; আর তার
প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছিলেন সমাজ
কল্যাণে। সূক্ষ্মভাবে বিচার করলে
ইসলামী সমাজ দর্শনের পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠা
না হলেও সেই মধ্যযুগেও যে এক সুষ্ঠ
নৈতিক ও সামাজিক বাস্তব সমাজ-
ব্যবস্থার গোড়াপত্তন হয়েছিল তা
ইতিহাসের কোথাও খুঁজে পাওয়া কঠিন।
খোলাফায়ে রাশেদা বা প্রথম চার
খলীফার সম্বন্ধেও একথা বলা চলে তবে
সংগঠনের দিক দিয়ে হযরত উমর ( রা. ) -এর
খিলাফতের ভিতরে পাই এক চমকপ্রদ
পৌর ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ইতিহাস।
ঐতিহাসিক ওয়েল ( Weil ) হযরত উমর ( রা . ) -
কে তাই ‘ The Guiding Spirit of Islam’ বলে
অভিহিত করেছিলেন।

উমাইয়া খিলাফত

উমাইয়া খিলাফত ইসলামের প্রধান
চারটি খিলাফতের মধ্যে দ্বিতীয়
খিলাফত। এটি উমাইয়া রাজবংশকে
কেন্দ্র করে গড়ে উঠে। ইসলামের
তৃতীয় খলিফা উসমান ইবন আফ্ফানের
খিলাফত লাভের মাধ্যমে উমাইয়া
পরিবার প্রথম ক্ষমতায় আসে। তবে
উমাইয়া বংশের শাসন মুয়াবিয়া ইবনে
আবু সুফিয়ান কর্তৃক সূচিত হয়। তিনি
দীর্ঘদিন সিরিয়ার গভর্নর ছিলেন।
ফলে সিরিয়া উমাইয়াদের ক্ষমতার
ভিত্তি হয়ে উঠে এবং দামেস্ক
তাদের রাজধানী হয়। উমাইয়ারা
মুসলিমদের বিজয় অভিযান অব্যাহত
রাখে। ককেসাস, ট্রান্সঅক্সানিয়া,
সিন্ধু,মাগরেব ও ইবেরিয়ান উপদ্বীপ
(আন্দালুস) জয় করে মুসলিম বিশ্বের
আওতাধীন করা হয়। সীমার সর্বোচ্চে
পৌছালে উমাইয়া খিলাফত মোট
৫.৭৯ মিলিয়ন বর্গ মাইল (১,৫০,০০,০০০
বর্গ কিমি.) অঞ্চল অধিকার করে
রাখে। তখন পর্যন্ত বিশ্বের দেখা
সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে এটি সর্ববৃহৎ
ছিল। অস্তিত্বের সময়কালের দিক
থেকে এটি ছিল পঞ্চম।

Wednesday, 28 September 2016

পারসিয়ান সম্রাজ্য


পৃথিবীর সবচাইতে গুরুত্বপুর্ণ সম্রাজ্য
গুলোর মদ্ধ্যে পারসিয়ান সম্রাজ্য
(Achaemenid Empire) অন্যতম। সু উচ্চ
পাহার, পর্বত, হ্রদ ও নদীনালা সব
কিছুই ছিলো এই সম্রাজ্যের। এই
সম্রাজ্যের ব্যপ্তি ছিল বর্তমান
পাকিস্তান থেকে লিবিয়া আর ওই
দিকে বলকান পর্যন্ত। এরাই প্রথম
কেন্দ্র চালিত একটি শাষন ব্যবস্থা
প্রচলন করে যার কারনে শত শত বছর
এরা শাষন করতে পেরেছিল।
জারক্সিস এই সম্রাজ্যের সম্রাট
ছিলেন।(৩০০ মুভিটা দেখে থাকলে
একটা ভাল ধারনা থাকবে এদের
ততকালিন সমর শক্তি এবং অহংবোধ
সম্পর্কে।) সম্ভবত মুসলমানদের হাতে
এদের সম্পুর্ন পতন হেয়েছে।

পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাম্রাজ্য

পৃথিবীতে
হাজার হাজার বছর ধরে চলতে থাকা
শক্তিশালি জাতি ও সম্রাজ্য গুলো
নিয়ে। যেই সম্রাজ্য গুলো নিজেদের
শক্তি ও সামর্থের কারনে ও তাদের
সৃষ্টির কারনে আজ পৃথিবীর মানুষের
কাছে আকর্শনের কেন্দ্রবিন্দু। আজ
আমরা ২য় পর্বে দ্বারিয়ে। চলুন জেনে
নেই পৃথিবীর ইতিহাসে সবচাইতে
গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু সাম্রাজ্য সম্পর্কে:
অটোমান সাম্রাজ্য (১২৯৯-১৯২২):
সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম
উসমানের নাম থেকে উসমানীয় বা
অটোমান নামটি এসেছে। একইভাবে
রাজবংশকে উসমানীয় রাজবংশ বা
অটোমান রাজবংশ বলা হয়। পৃথিবীর
ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ এবং দীর্ঘসময়
পর্যন্ত শাসন করা সম্রাজ্য ছিল
অটোমান সম্রাজ্য। সুলেমান দ্য
মেগনিফিসেন্ট এর শাষনামলে এর
সর্বোচ্চ উৎকর্ষতা ছিল। তখন রোমান
সম্রাজ্যের দক্ষিন সীমানা থেকে
ইরান এর পারসিয়ান গালফ পর্যন্ত এবং
কাস্পিয়ান সাগর থেকে আধুনিক
আলজেরিয়া পর্যন্ত এর সিমানা
বিস্তিৃত ছিল। ততকালিন দক্ষিন
ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া এবং উত্তর
আফ্রিকা সহ বিশাল আরব ভুখন্ড এরাই
শাষন করত। ১৭শ শতকের শুরুর দিকে
অটোমান সম্রাজ্যের ৩২ টার উপর
সুবিশাল একএকটা প্রদেশ ছিল। যা এই
সম্রাজ্যকে সত্যিকার অর্থে
ততকালিন সময়ের একটি বৃহৎ সম্রাজ্যা
হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই
সম্রাজ্যের পতনের প্রধান কারন হচ্ছে
বৃটিশদের ষরযন্ত্র আর তাদের
দোষরদের মুনাফেকি। মুসলমানদের
মতবাদ নিয়ে প্রচন্ড রকমের
মতপার্থক্য আর সংঘর্ষ একটা কারন
হচ্ছে এই সম্রাজ্য পতনের। পুরো
সম্রাজ্যকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে
ফেলা হয়। আধুনিক তুরস্ক এই
সম্রাজ্যের কেন্দ্র্র বিন্দু ছিল।